প্রকাশিক-_ শ্রীস্ুবোধচন্্র মনতুমদার দেব ১২৫ বি, ঝাঁমাপুকুব লেন, কলিকাতা--৯

আত (বশাপ ৯5৫৮

প্রিন্টাৰ_এ, সি, মন্জুমদীব

দুই টাকা দেব ৫্রপ ২৪, ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা

১... ৬৭ 0 118/১%, 2 1255

পর্চি

শিপ প্রা কা পপর পা, পাপা পাত পগিলি 02 নিপা পা পদ পর ৬০৮ পপর

০০

কনকনে ঠা রাতি, ডিসেম্বর মাঁস। ট্রগুলা ফ্েশনের ফর্ট ক্লাশ ওয়েটিংরুমে চার জন যাত্রী নিঃশব্ডে বাসে আছেন। চার জনেরই ওভারকোট গায়ে, পা থেকে গলা পর্ধস্ত টাকা, তবু রেল-কোম্পানির মাপজৌকমতো বানানে এবং সাজানো সেই হদয়হীন কামরার নিস্তেজ আলোতেও বোবা যাচ্ছে ষে, চার জন চার জাতের মানুষ, সংসারের বিভিন্ন বিভীগ থেকে ছিটকে আজ এখানে এসে জুটেছেন। ইজি-চেয়ারে ধিনি চড়িয়ে আছেন তাঁর প্রকাণ্ড বলিষ্ঠ শরীর-_ হয়তে। একটু অশৌভনরকম বলিষ্ঠ, যেন সেই অতিশয় পুরুষজাতীয় জীব, যার! যোলোয় প'ড়েই জুতো জামার মাপ-পেরোনো লক্ব!

মনের মতে মেয়ে

হ'য়ে বাপ-মাকে তাক লাগিয়ে দেয়। এর মুখখানীও মণ প্রায় একটা কাঠালের সমান, ছাঁদটাও তেমনি ল্বীর দিতে আর তার গালের চওড়া জমিতে আগামী ্রত্যুষের দাড়ির বীজ- বোধহয় ঠাণ্ডায় রৌমকূপ ফুলে উঠেছে ব'লেই-_এখনইস বুটি-বুটি নীল হ'য়ে ফুটেছে। দ্বিতীয় জন সুগঠিত স্ুপ্রী মা সাজগোজেও দৌরস্ত, টুপি ছড়ি দস্তানা সুদ্ধং শ্বেতাঙ্গবে টিপটপ। এর মুখখান। গোল ছাদের, নধর, গম্ভীর, রং ঠিক সেইরকম মস্ছণ কাঁলো, যাতে স্থশ্রী পুরুষকে স্ব্রী দেখায়; আর মাথার চুল ঘন এবং কালো হ'লেও হু? এক-একবার রূপোলি স্থতো ঝিপিক দেয়। ঠোট চাপাও ভরাঁও না, তীক্ষ রেখায় পরিস্ফুট, যেন ঠোটের কম ক" হুকুম ক'রে অভ্যেস একে যে দেখবে সে-ই বলবে যে, কথনে! গল চড়াতে হয় না, এর নিশ্চিত, হ্থশৃঙ্থল জীবনে নি নড়চড় হয় না কখনোই এই আরাম, নিজেকে বেশ তোয় রাখার রুটিন, এই ওয়েটিংরুমের চেক়ারেই হাটুতে হাটু বসে থাকায় এর ফষে ম্বাভীবিক কর্তৃত্বের ভাব, খানিকটা! আভাস পাওয়। যায় তৃতীয় জনেও। ইনি মোটার দিকে_ সেকেলে বাবুগোছের চেহারা, মাথার মধ্যিৎ টেড়ি-করা৷ চুল, গাল দুটি লালচে-_যাঁবা খুব ফল খায় ত, যেমন হয়-ঠোটের উপর পরিক্ষীর গৌঁফ দিব্যি মা কিন্তু চতুর্থ জন_-তিনি যেন এই আলবু্মের ঠিক উে ছোটো-খাটো। মানুষ-_-বসেছেন একটু কোণের দিকে, :

মনের মতো মেয়ে

চেয়ারে বসে আর-একটায় পা তুলে িয়েছেন- -যদি আর-একটা বিরাট ইঙ্জিচেয়ার শৃন্ত পড়ে আছে, কিন্ত বসার ভাবটায় স্বাচ্ছন্দ্য নেই। বার-বার ন'ড়ে-চড়ে কোনোৌরকমেই যেন আরাম পাচ্ছেন না, আর মাঝে-মাঝে চোখ বুজলেও কপালে থেকে-থেকে রেখা পড়ছে-_যেন কী জরুরী কথা ভাবছেন, যেন ভাবনায় অস্থিরতাই এর অভ্যাস। হঠাত দেখলে এর শ্লস খুব কম লাগে, হয়তো চার জনের মধ্যে এরই বয়স "লবচেয়ে কম, কিন্তু নাকের ঠিক তলাটিতে যখন আলো পড়ে তখন আর একে যুবক ব'লে ভুল হয় না। এই চার ভ্রামামাণের এর আগেও পরসম্পরে দেখ! হয়েছে। 'খ্তাঁজমহলের বাগানে, সেকেন্দ্রার সিঁড়িতে, তারপর আজ আগ! কে এক কামরাতেই এলেন। কিছু কথাও হয়েছে ট্রেনে খুস। তাতে বোঝ! গেলো, বলিষ্ট পুরুষটি কনট্র্যক্টর, দিল্লিতে গুসহিলেন ভারত সরকারের অর্ডার নিতে, ফিরতি-পথে শাগ্রা, ইচ্ছে আছে কাশীতেও একবার থামকেন। দ্বিতীয় জন 'লিরই একজন পুরোনো, বিশ্বস্ত রাজপুরুষ, সম্প্রতি মিলিটারি শগে একটি দািহপূর্ণ পদে অধিষিত, এবং দায়িত্বপুর্ণ সরকারী 'প্লজেই আগ্রা থেকে এখন যাচ্ছেন এলাহাবাদ, তারপর লক্ষৌ থণ্টনমেপ্ট। তৃতীয় জন কলকাতার ডাক্তার- ডাক্তার .ন্মামজাদাদের মধ্যেই একজন-_দ্বিলিতে মেভিকেল, /বধস্লন্সে ডিপথেরিয়া বিষয়ে বক্তৃতা দিয়ে এখন .স৬পীদের তদারকে ফিরে যাচ্ছেন আর চতুর্থ জন--তিনি

গড

মনের মতো মেরে

উত্তর ভারতে এসেছেন শুধুই বেড়াতে, দৃশ্য দেখতে, এখান থেকে সোজ। কলকাতায় ফিরবেন, না, পথে কোথাও নামবেন, সে-বিষয়ে ঠিক মনস্থির নেই। তার পেশ! কী তাও ঠিক বোঝা গেলে। না, বললেন বই লেখেন, কিন্তু বই লেখাটা! ঠিক কাজের মধ্যে পড়ে কি? তবে মানুষটা যে বই ঘেষা তা বোঝা গেলো, কেননা, কথাবার্তা ফুরোৌবার পর যে মস্ত মোটা বইথান। তিনি খুলে ধরলেন, সেটি আকারে-প্রকারে-- অন্য তিন জনেরই মনে হ'লো- ট্রেনে বসে পড়ার একেবারেই অযোগ্য, আদৌ পাঠযোগ্য কিনা তাও হয়তো সন্দেহ করা যাঁয়। রা |

টুগুলায় এসে দুঃসংবাদ! আলিগড়ের কাছে মালগাড়ি ডিরেল্ড হয়েছে, সব গাঁড়ি বন্ধ। কতক্ষণ? তা লাইন ক্রিয়ার হ'তে চার-পাঁচ ঘণ্টা তো। লাগবে তার মানে, আজ রাত্রের মতে! আশা নেই ? মনে তো হয় না রাজপুরুষের জরুরি কাজ, তিনি এরোপ্লেনের খবর নিলেন হ্যা, আগ্রায় ফিরে যাবার গাড়ি আছে, কিন্তু আগ্রায় ফিরে প্রথম প্লেন পাওয়। যাবে সকাল সাড়ে-ন"টায়। ডাক্তীরটি যেন চেষ্টা করলেন বেশ দার্শনিকভাবে ব্যাপারটা মেনে নিতে, কিন্তু কনট্র্যাক্টর ঘন-ঘন নিশ্বাস ছেড়ে বলতে লাগলেন, ও£, এই শীতে-_-! যদিও তার দেহের আয়তন আর আচ্ছাদনের ঘনতা, দুটোই উত্তমরূপে শীতনিবারক তবে, রোগ। ভদ্রলৌকটির সত্যি খুব শীত লাগছিলো, তিনি হাতে হাত ঘষলেন, একটু পায়চারি করলেন, "তারপর ফিত্রে ফাড়িয়ে

মনের মতে মেয়ে

অন্য তিন জনকে এই অনাবশ্যক খবরটা জানালেন যে, ওয়েটিংরুমে রাত কাটানে। ছাড়। এখন আর উপায় মেই।

এই একটু আগেই মালপত্র নিয়ে বসেছেন এরা কারো সুখেই কথ। নেই, আপাতত তিন জনেই বোধহয় মনে-মনে এই ছুরদৃ্ট হজম করতে সচেষ্ট এক-একটা মিনিটকেই কী লম্বা মনে হচ্ছে, আর শীতের এই লন্বা। রাত!

ইজি-চেয়ারে ন'ড়ে-চ'ড়ে কনট্যাক্টর জিগেস করলেন, “ক-টা বাজলো ? তার নিজের হাতেও ঘড়ি ছিলো, কিন্ত আলম্যবোধেই হোক, কিংবা কথা বলার ছুতো! বলেই হোক, (তিনি অন দু-জনকেই জিগেস করলেন কথাটা।

জবাব দিলেন সরকারি চাকুরে “বারোটা পয়ত্রিশ

পয়ত্রিশ! যাক, টেন থেকে নামার পরে আধ ঘণ্টা! প্রায় কাটানো গেছে কনট্যাক্টর আর-একটি প্রশ্ন খুঁজে পেলেন £

'শোবার ব্যবস্থা হবে নাকি %

“এই মেঝেতে ?

তাতে কনট্র্যাক্রের আপত্তি ছিলো না, কিন্তু অন্যের উন্নত ক্লচি অগত্য। মেনে নিলেন

“এখানে রিটায়ারিং কম নেই ?

“না |”

এই এক-কথার জবাবের পর কথাবাত1 এগোনো শক্ত, কিন্তু মোটা! মানুষর মিশুক হয়, আলাপী হয়, তাই ইজি-চেয়ারের গ্রহবর থেকে আবার আওয়াজ উঠলে!

মনের মতো! মেয়ে

“আমরা তো তবু বসে-টসে যা-ই হোক- কিন্তু অন্য প্যাসেঞ্ারদের কী হুদা!

এর উত্তরে কোনে সমব্যথী মন্তব্য হ'লো৷ না, কিন্তু, যেন এর উত্তরেই, ওয়েটিংরূমের টানা দরজা ফাক হ'লো, আর বাইরের হিম হাওয়ায় হঠাৎ ঘর ভরে গেলো।। বোধহয় সেই- জন্যই চার জনেরই দরজার দিকে চোখ ফিরলো, যিনি মাথ! হেলিয়ে চোথ বুজে ছিলেন, তারও

এই চার-জোড়া চোখের সামনে, দরজা খোলার কারণ যারা, তারাও থমকালো। দু-জন তার! দরজাটা ফাক করে ধরে যুবকটি দ্লাড়ালো, সবটা তার দেখা গেলো না, আভাসে বোঝা গেলো, তার শীতে-ফাটা মুখ, গায়ের ব্রাউন রঙের বাড়িতে বোন! পুল-ওভ1র, পরনে শস্তা দরের প্যাৎলুন। আর মেয়েটি তার পাশে, প্রায় গা ঘেষে, আরো একটু আড়ালে তাকে প্রায় দেখাই গেলো না-শুধু কিছু কালো চুল ঝিলিক দিলো, সি'ছুরের গবিত লাল, তরুণ মস্ুণ গলা, গালের উপর চুর্ণীলক। মাত্রই কয়েক সেকেগ্ড তারা সেখানে দাঁড়ালো, অস্ফুটে ছু-একটা কথা বললো-_কিন্তু এটুকুতেই ওয়েটিংরুমের বিশীর্ণ শীতে ঈষৎ যেন উষ্ণ হাওয়া! দিলো, এটুকুতেই বোৌঝা৷ গেলো তাদ্দের নতুন বিয়ে হয়েছে_ হয়তো ছু-মীস, হয়তো এক বছর, কিন্তু পরস্পরের ভালোবাসায় এখন--এখনো-_তারা আত্মহারা এ-ষে তার৷ একটুখানি ফীড়ালো, মিচুগলায় কী বললো কী বললো না, তারপর ফিরে গেলো, ওতেই বয়স্ক তিন জন পুরুষকে তার!

শু

হনের মতো মেয়ে

স্পট বুঝিয়ে দিলো যে, এখনো তারা স্বর্গের অধিবাসী, একজনের আর-একজন থাকলে আর-কিছু চাই না, কিছু না, কাউকে না, কিছুই না! দরজ। আবার বদ্ধ হ'লো, আবার থাকলে। শুধু হৃদয়হীন, কুপণ

ওয়েটিংরুম, ট্রেনের অভাবে, আরামের অভাবে, ঘুমের অভাবে কাতর চার জন বয়স্ক পুরুষ।

মিশুক মোটা মানুষটি এবারেও প্রথম কথা বললেন।

“এরা ফিরে গেলেন যে?

“কর্ণ ক্লাশের প্যাসেঞ্লার ব'লে মনে তো হ'লো না, জবাব দিলেন ডাক্তার

না, সে-জম্য না, বললেন তৃতীয় জন, কপালে-রেখা-পড়া বইঘে'ষ। মামুষটি, ওয়েটিংরূমে আসবার পরে এই তিনি প্রথম কথ। বললেন ! “সে-জন্ত না ফিরে গেলো আমাদের দেখে।'

চাকুরের চিন্ধণ মুখে হালকা! হাসি ফুটলো ! আই সী। হানিমুন ইন লভ। ওয়েল--'অন্তত আজ রাত্রিটা এদের ছুঃখেই কাটবে।

না, দুঃখে না, আলগোছে জবাব দিলেন বই-পড়ুয়া। “এরই মধ্যে একটু নিরিবিলি দেখে ব'সে থাকবে কোথাও__ভালোই থাকবে। এর! আর-কিছু চায় না, একটু নিরিবিলি চায় ।'

“ও, রিয়েলি! জীবনের এই একট! সময়! কথার শেষে চাকুরের মুখ গন্তীর হ'লো, যেন অন্য-কিছু ভাবতে-ভাবতে সিগারেটের টিন খুললেন ।,

মনের মতো মেয়ে

কনট্র্যাক্টর ফোঁস ক'রে নিশ্বীস ফেললেন। “ও£, ঠাণ্ডা ! একটু পরে, কোণের কুন্টিত মানুষটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তা নিরিবিলি হোক, কিন্তু, ঠাণ্ডা তো৷ লাগবে। এদের আসতে বললেই হ'তো।'

বললেও আসতো না।

ডাক্তার একটু হেসে বললেন, তাহ'লে__তাহ'লে আমরাই না-হয় নব দম্পতীর অনারে-_+

€ওয়েটিংরুম ছেড়ে দেবো ? রোগা ভদ্রলোক চেয়ার থেকে পা নামিয়ে উঠে ঈ্লীড়ীলেন। এবার তীর একটা অন্ত ছবি পাওয়া গেলো ছোটো হালক! ছিপছিপে মানুষ, কিন্তু ভঙ্গিটা৷ মজবুত কর্মঠ, চলাফেরায় পাখির মত দ্রুত, চৌধের দৃষ্টি লাজুক, অশাভ, ঠিক সোজান্ুজি কারে! দিকে তাকায় না আর-কিছু না-বলে তিনি দরজ। পর্যন্ত হেটে গেলেন, আবার ফিল্তুর এসে হাতের কাছে যে কোনে চেয়ারে বসে পড়লেন।

“মনে হচ্ছে, নব দম্পতীর বিষয়ে আমরা বড্ড বেশি ভাবছি» টিগ্রনি কাটলেন দিলিওল! | “আম্ুন-_+ সিগারেটের টিন এগিয়ে দিলেন।

“নো, থ্যাঙ্কস, বললেন ডাক্তার অন্য তিন জন সিগারেট ধরালেন, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হ'য়ে থাকলেন একটুক্ষণ।

দরজা আবার ফাক হু'তেই এরা চকিত হলেন। উদ্দি-আটা বেয়ারা এসে জিগেস করলো, সাব-লোগের কিছু কি চাই? রিফ্রেশমেণ্ট-রুম বন্ধ হ'য়ে ষাচ্ছে। নি

মণের মতো মেয়ে

অন্যদের চোখের সম্মতি পেয়ে চাকুরেটি বললেন, “কফি!

আবার চুপচাপ। বাইরে এতক্ষণ সাড়াশব্ড ছিলো-_ লোকজনের চলাফেরা, হাকডাক--এবার প্যাসেঞ্জারর। সবাই বোধ হয় রাতের মতো গুছিয়ে বসলো, যেখানে হোক, যেমন হোক জায়গা ক'রে নিলো-_সেই দুজনও কোথাও একটুজায়গা পেয়েছে, এখানে আর আসবে না। এতক্ষণ কিছু বোঝা যায়নি, কিন্তু বাইরের গোলমীল থামতেই বড্ড বেশি চুপচাপ লাগলো চারদিক, এত বড়ো ফ্টেশনের পক্ষে অন্বাভাবিক চুপ। কিন্তু লাইন বন্ধ; আজ রাতে আর কোন গাড়ি আসবে না, ঘণ্টা বাজবে না; তার উপর ষা শীত, কুলি, ফেরিওলা, পানবিড়ি, আপাতত সব ব্যস্ততাই ফুরোলো আর এই ঘরের মধ্যে অনুজ্ম্বল আলোয় এই চার জন, পরস্পরের পরিচিতও নয়, সিগারেটের সুন্ষন নীল ধোয়া*তীর্দের সঙ্গী, যেন মনে হলো, বাইরের অন্ধকারে পৃথিবীটাই মুছে গেছে, একটা আরামহীন অভ্যর্থনাহীন ছোট স্বীপে তারা আশ্রয় পেয়েছেন। পরস্পরকে তত আর অচেনা লাগল না, এমন কি, কোথায় যেন এইরকমও একটা অনুভূতি হ”লো! যে, চার জনেই একই কথ! ভাবছেন। এ-ষে ছু-জন-_ তরুণ-তরুণী __ষারা মুহূর্তের জগ্ঠ দরজার ধারে ঝিলিক দিয়ে চ'লে গেলো, এটুকুতেই তারা! কিছু রেখে গেছে_যেন যৌবনের পাবি উড়ে যেতে-যেতে পালক ঝরিয়ে দিলো-_কোনো-একটু চিহ্ন, কোনো তাপ, কোনো সুখ, দুঃখ, কম্পন, যা! এখনে! থামছে না, যা নিয়ে এই চার অন, কথ! যদি নাও বলেন,

মনের মতো মেয়ে

অন্তত মনে-মনে যা ভাবতে পারবেন, তাতেও হয়তে। এই বিশ্রী রাতটা! কোনোরকমে কাটতে পারবে।

হঠাৎ ডাক্তারটি বললেন, "আমাদের বোধহয় অভদ্রতাই হ'লো।

“এখনো দম্পতীর কথাই ভাবছেন ? দ্রিলিওল। হাসলেন, কিন্তু তার কথাতেই প্রমাণ হ'লো যে, তিনিও তাদের ভোলেননি।

'ভাবছিলাম__অন্য কথা ভাবছিলাম। ভাবছিলাম এমন দিন এদের জীবনে ক-দ্দিন থাকবে ।,

এবার দিলিওল! ছোট আওয়াজ ক'রে হাসলেন “সটা কি একট। ভাববার বিষয়? সেট! কি আমরা সকলে জানি না৷?

“পরে আমরা সকলেই জানি, কথা বললেন অন্ত জন, শর্ণ মুখের ছোট্র মানুষটি, “কিন্তু তখনকার মতে! কেউ জানি না। ধরুন, এঁ ছু-জন এখন কি ভাবতে পারে যে, এর গুময়াদ কত অল্প দিনের? তারা কখনো ভাবতে পারে যে, ঠিক এইভাবেই আর বেশি দিন তাদের জীবন কাটবে না? এই আশ্চর্য ফকির এটাই তে। সবচেয়ে আশ্চর্য)

“আশ্চর্য ফাঁকি বা বেশ বলেছেন কথাটা ! কনট্র্যাক্টর মাথা নেড়ে অনুমোদন জানালেন।

কফি এলো

“তাহ'লে কি সবটাই ফাঁকি ? কনট্র্যাটরের মস্ত মুখে ষে্ক দুশ্চিন্তার ছায়া নামলো

“অন্তত এই কফিটা একেবারেই ফাকি না। দিব্যি «ধায়!

১৩

মনের মতো মেয়ে

উঠছে আপনার চিনি ?' ব'লে ছিমছাম ডাক্তার কফি ঢালতে, ব্যস্ত হলেন।

মন্ত মোটা মানুষটি_মনে হু'লো--মনের কৌতৃহলে শরীরের আলহ্য ভুললেন। ইজি-চেয়ার ছেড়ে অন্য ছু-জনের কাছাকাছি চেয়ার টেনে বসলেন, ঠাণ্ডা টেবিলে হাত রেখে সামনের দিকে ঝুঁকে বললেন, তাহ'লে কি সবটাই ফীকি? কিছুটা থাকে না? আপনি তো সাহিত্যিক- আপনি বলুন তো? |

সাহিত্যিক ব'লেষীকে সম্মান কর! হলো) তিনি এই সম্তাবণে কুষ্টিত হলেন, কিন্তু তাই ব'লে জবাব দিতে দেরি করলেন না।

স্মৃতি থাকে শেষ পর্যন্ত শুধু স্মৃতিই থাকে, আর-কিছুই থাকে না।'

স্মৃতির কী মুঝ্ব্যু?

“কিচ্ছু না! দিল্লিওল। প্রফুল্ল স্বরে ঘোষণ। করলেন। মিছি-মিছি কাজের ক্ষতি, সময় নব্ট, ঝ'সে-ব'সে মন-খারাঁপ করা। আস্বন-__আপাতত কফিটা থাওয়। যাক ।,

কনট্র্যা্টর তবু আবার একটা প্রশ্ন করলেন, “ফেম্ুখ এখন আর নেই, তার স্মৃতি স্থখের, না দুঃখের ?

দিল্লিওলার ঠোটের কোণে ঠাট্রার হাসি ফুটলে!। “ও-সক ভেবে লাভ নেই, তবে একটা গল্প শোনান তে। সময় কাটে ।'

গল্প ! গল্প কিসের ?

“আই মীন-_ আচ্ছা, আমর এখানে চার জনেই বরস্ক পুরুষ-

৯১

মনের মতো মেয়ে

মানুষ, মছিলাও কেউ উপশ্থিত নেই, তাই মন খুলে কথা বললে দোষ হয় না।'

'আপনি বলছেন কী?' মোটা কনট্র্যা্টর একটু যেন ভীত হলেন।

“ইনি বলছেন, ডাক্তার বুঝিয়ে দিলেন, “যে এইরকম দিন - দুজনের মতে! দিন আমাদেরও জীবনে একদিন ছিলো-__?

'আমার না! কনট্র্যা্টর আপত্তি জানালেন, এবং সঙ্গে-সঙ্গে তার দাড়ির ছায়া-পড়া প্রশস্ত গাল বিসদৃশ লঙ্ভায় হঠাৎ একটু লাল হ'লো।

আপনারও,» বললেন সাহিত্যিক, 'এমন কেউ নেই যার কখনো কাউকে ভাগে লাগেনি তারপর কী হ'লে সেটা কিছু কথ। নয়, ভালোলা গাটুকুই দামি। হয়তো তার স্মৃতিরও কিছু মূল্য আছে তেমনি কোনো স্মৃতি;

আমার নেই! কনক্র্যাকর সজোরে হাত নেড়ে প্রতিবাদ করলেন। আপনারা বলুন, আমি শুনি

“বেশ, আমরাও বলবো, ডাক্তীর ভারিক্ষিগলায় বললেন, কিন্ত আপনাকেও বলতে হবে আজ তো আর ঘুম-টুমের আশ! নেই, গল্প ক'রেই রাতটা কাটানো যাক আরন্ত করুন ।'

'আমাকে বলছেন? কফির পেয়ালা তুলতে গিয়ে কনট্র্যাকটর থামলেন “আমি দেখুন, ব্যবস। করি, ব্যবস! ছাড়া কিছুই বুঝি না, আমার ও-সব_

১২

মনের মতো মেয়ে

হ্যা) আপনারও আছে-_ খুব নিশ্চিন্তভাবে সাহিত্যিকটি »বললেন। কনট্র্যাক্টর নিচুমাথায় চুপ ক'রে থাকলেন একটু তারপর বললেন, আমার কোনে। কথ নেই, তবে অন্য-একজনের 'কথা আমি জানি_ আমার এক বন্ধু “বেশ, তার কথাই বলুন ।' কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে কনট্র্যা্টর আরম্ভ করলেন।

মাখনলালের ছুঃখের কাহিনী

মনে করুন তার নাম মাথনলাল। নাম গুনেই বুঝতে পারছেন সে খুবই মোটামুটি আটপৌরে-গোছের মানুষ, কিন্তু বাড়িতে তার খাতির খুব। তার কারণ সে তার বংশের প্রথম বি. এ.। তার ঠাকুরদার সাত ছেলে, সাত ছেলের বত্রিশটি, আর সেই বক্রিশের যে আরো! কত কে জানে--এখনে। কি তার ,শেষ হয়েছে! কিন্তু এতগুলি লম্বা-চওড় পুরুষজ্াতীয় জীবের 'মধ্যে একজনও ম্যাটিকের চৌকাঠ পেরোতে পারেনি, কেউবা সেখানেই ঠোকর্‌ খেয়েছে নিয়ে হিরগায়ীর-_ অর্থাৎ মাথন- লালের মা-র মনে আক্ষেপের অন্ত ছিলে। না, কথায়-কথায় এ-নিয়ে স্বামীকে এমন খোটা দিতেন ষে, রাধববাবুর মুখে আর রা বেরোতো না। তার-_মানে হিরএরীর-_ছই দাদাই বি, এ. পাশ, নিজে তিনি 'নীলফামারি গার্সস্‌ হাঁই স্কুলে ক্লাশ নাইন অবধি পড়েছিলেন। তাই তীর প্রথম পুত, এবং প্রথম সন্তান,

১৩

মনের মতো মেয়ে

মাখনলাল যেদিন জন্মালো, সেদিন থেকেই তীর প্রতিজ্ঞা যে, ছেলেকে বি. এ. পাশ করানোই চাই।

এ-প্রতিজ্ঞা পালন করা সহজ হয়নি। বাড়ির হালচাল আবেকি-জমিদারির মৌতাতে ভরা কাজ ক'রে খেতে হবে একথা অনেকদিন কারো মনেই হয়নি, তাই সরস্বতীর গোলদিধি-মার্কা পদ্ম কুড়োতেও কারে গরজ ছিলে। ন]। আজ অবস্থা পড়ে গেছে, কিন্তু সেকেলে চালটুকু আছে; এখনো বাড়ির কর্তারা বেল! ছুটোয় গড়িমসি ক'রে ক্মান ক'রে, বাটিবেষটিত সুবুহৎ থালায় ভোজন করেন, তারপর পাশ- বালিশটিকে আলিঙ্গন ক'রে পরম প্রশান্ত চিত্তে নিদ্রা যান। এই দিবানিদ্রা তাদের বংশগত বৈশিষ্ট্য, দেউলে হ'তে হ'তেও এটা তার ছাড়েননি অর্থাভাবে কষ্ট হয় বইকি, কিন্তু অর্থোপার্জনের কষ্ট যে ততোধিক

রাঘববাবুরও এভাবেই দিন কাটছিলো-_-এভাবেই কাটতে।-_যদ্দি-না হিরণুয়ী পণ করতেন, ছেলেকে পাশ করানে। চাই। দেশে প'ড়ে থাকলে হবে না, হ'তেই পারে না। তাই মাথনলাল যেবার গ্রামের স্কুল থেকে ম্যাটি কুলেশন পাশ করলো, স্বামীকে প্রচণ্ড তাড়৷ দিয়ে সেবারই তিনি চ'লে এলেন ছেলেপুলে নুদ্ধ, কলকাতীয়। রাজি হওয়াই সবচেয়ে সোজ। ঝলে গোলগাল রাঘববাবু স্ত্রীর কথায় রাজি হলেন, আলস্তের বনেদি অভ্যাসটাও আসন্তে-আস্তে ভীকে ছাড়তে হ'লো। কুলকাতায় আসার অল্পদিন পরেই তিনি পুঁজিপাঁটা ভাঙিয়ে ছোটো একটি

১৪

মনের মতো মেসে

'দ্বোকান দিলেন ভবানীপুরে বল। বাহুল্য, এটাও স্ত্রীর পরামর্শে। হিরগ্নয়ী বুঝকেছিলেন যে, জমিদারির স্মৃতি ভাঙিয়ে ভাত- কাপড়ও'আর বেশি দিন জুটবে না। মাথার বুদ্ধি আর গায়ের গয়ন। খরচ ক'রে তিনি স্বামীকে দোকান ক'রে দিলেন। * কাঠের দোকান ছুতোরের কাজে রাঘববাবুর শখ ছিলো, নিজের হাতে চেয়ার-টেবিলও বানিয়েছিলেন তাই, অনিচ্ছায় আরম্ভ করলেও, ক্রমে-ক্রমে কাজে বেশ নেশাই লাগলো তভার। দুপুরের ঘুমটুকু ছাড়লেন না, কিন্ত সেই ছু-তিন ঘণ্টা বাদ দিয়ে প্রায় সারাদিনই তিনি দোকানে হয়তো! সেইজন্যই লক্দমী তাকে কুপা করলেন, এবং লক্ষমীর কৃপায় আরে তার উৎসাহ বাড়লো বছর-ছুয়েকের মধ্যে তার ছোট দোকানে “দি সাউথ ক্যালকাট ফারনিশিং হাউসে'র পত্তন হ'লো। রাঘববাবুর ইচ্ছে ছিলে, মাধনলাল প্রথম থেকেই দোকানে বস্থুক, কাজকর্ম শিখুক, কাঠের গন্ধ, স্পর্শ, বর্ণের সঙ্গে পরিচিত হোক। কারবারে উন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে কাজও যখন বেড়ে চললো, তখন বড়ে। ছেলের সাহাষ্য পেতে আরো! তিনি ব্যস্ত হলেন। আই. এ. তো হ'লো-_-আর কী দরকার-__হবেই-বা কী পাশ ক'রে এদিকে কারবার উঠতির মুখে, ঠিক এই সময়টায় ভাগ্যের টুটি চেপে না-ধরলে শেষটায় না৷ ফশকে যায়। কিন্তু বৃথা যুক্তি ! যদি সর্বস্ব যায়, তবু মাথনলালের বি. এ. পাশ করাই চাই। | সেই মাথনলালের সেই বি. এ, পরীক্ষায় পাশের খবর যেদিন

১৫

মনের মতো মেয়ে

পাওয়া গেলো, সেদিন হিরায়ীর আনন্দ আপনার। কল্পনা ক'রে নিন। তীর একুশ বছরের স্বপ্ন এতদিনে সার্থক! এত খুশি হলেন যে, খুশির ঝৌকে তিনি একটা অন্গুত প্রস্তাব করলেন-_ বললেন, ছেলের এবার বিয়ে দেবো।

অদ্ভুত না ? বি. এ. পাশ করলেই বিয়ের যোগ্যতা হয় কথ কি আজকাল কেউ ভাবে? মাত্র বি. এ-পাশ-করা ছেলে-_সে তে! ছেলেমান্ূষ ! তার আবার বিয়ে !

কিন্তু হিরণয়ীর কাছে এতে একেবারেই কিছু অদ্ভুত ছিলো! ন।। প্রথমত, এটাই ওদের পারিবারিক প্রথা--ওর বাপ-খুড়োরা কেউ আঠারো পেরোয়নি। শিক্ষায় আধুনিক হয়ে, বিয়ের ব্যাপারে শাবেকী হ'তে দোষ কি-_-সংসার সচ্ছল, ঘরে বৌ এলেই এখন ভরা-ন্খ। আর ছেলে কি আজ-কালকার চশমা- চোখে পুঁচকেদের মতো--একবারু চেহারাখানা গ্ভাখে। না!

হ্যা-চেহারাখানা তার দেখবার মতো- সেকথা সত্যি। মাখনলালকে আমি ভালোই চিনি-_চিনতাম--একুশ বছরেই যেন বত্রিশ বছরের জবরদস্ত জোয়ান সে। বড়ো-বড়ো ফ্াত, বক্ষম্থল ঘনরোমশ, পায়ের প্রকাণ্ড জুতো দুটো এমনিতে পড়ে থাকলে দেখে প্রায় তাক লাগে তিন ছেলের বাপ ব'লে স্বচ্ছন্দে যাকে চালানে যায়, বিয়ে নাকরলে তাকে আর মানাবে কেন %

পাত্রীও হাতের কাছেই জুটে গেলো পাশের বাড়িতে থাকেন স্ৃভদ্রবাবুঃ মনে-মনে তার মেয়েকেই হিরগ্নয়ীর প্রথম, থেকে পছন্দ। কারণ, রূপ? বাঁপের টাকা ? কোনোটাই না

১৩

মনের মতে মেয়ে

স্বভদ্রবাবু আধা-গরীব প্রোফেসর, আর মেয়েটি-__আমি মাখন- লালের কাছেই গুনেছিলাম সব--ষাকে সুন্দরী বলে ঠিক তেমন-কিছু নয় কিন্তু, বিষ্ভে ! বাঁপ বিদ্বান, আর মালতী-_ মেয়েটির নাম মালতী--সে নিজেই কি কম! ম্যাটি কুলেশনে তিন তার! পেয়ে এখন কলেজে পড়ছে, খেতে বসেও নাকি বই পড়ে সে। আর বইয়ের কি ছড়াছড়ি বাড়িতে--বাসরে ! --এমন কি আর কোথাও দেখ! যায়?

বই দেখে মেয়ে পছন্দ একটু হয়তে। নতুন শোনায়, কিন্তু আপনার! এতক্ষণে তো বুঝেছেন যে, ঠিক ওখানটাতেই ছিরগায়ীর দুর্বলতা একটুও অতিরঞ্জন না-ক'রে বল! যায় যে, একসঙ্গে অত বই তিন কুলে কোথাও তিনি গ্ভাখেননি। সবচেয়ে কম দেখেছেন শ্বশুরবাড়িতে, সেখানে ও-সবের পাটই নেই মাখনটাও তা-ই, পাশ করুক আর যা-ই করুক, এমনিতে একটা বইয়ের কখনো পাতা ওপ্টায় ? নাঁ_বংশের ছণচই এদের অন্ভুত।

অতএব, বংশের ধার! বদলাতে হ'লে, বিদ্বান-বাড়ির মেয়ে চাই__এই হ'লো হিরণ্ুয়ীর মনের কথাটা অর্থাৎ, যেমন তিনি কাটের ছুতে। ধ'রে লক্ষমীকে ডেকেছিলেন, তেমনি এখন পুত্রবধূর ফাঁদ পেতে সরস্বতীকে ধরতে গেলেন জাত-গোত্র সব মিলে যাচ্ছে-_-এই শ্রাবণেই হ'য়ে যাক না, নয়তো সেই অগ্রাণ আবার কত দূর !

স্বামীর সামনে পঞ্চব্যগ্রন সাজিয়ে কথাটা একদিন

১৭

মনের মতো মেয়ে

পাঁড়লেন তিনি রাঘববাবুর ইচ্ছেটা অগ্ রকম--মোটা রকম কিছু হাতে পেলে ব্যবসাটি জাকিয়ে তোলেন, কিন্তু হিরুণ্য়ী উড়িয়েই দিলেন সে-কথা বললেন, টাকা তোমার কপালে থাকলে এমনিতেই হবে-__হাত পাতবে কেন ?

না, না, হাত পাতায় কথ! না_তবে চাদ 'সেদিন অবিনাশবাবুই বলছিলেন-..

“কে অবিনাশবাবু £

“আমার পাশেই তীর দৌকান।,

'মদের দোকান? ছি! শুড়ির মেয়ে !

শুঁড়ি তো নয়-__চবিবশ পর্গনীর কায়ে। শ্কটু গরজও আছে মনে হ'লো-_তুমি না-হয় মেয়েটিকে একবার__ হ'লে বৌধহয় সব দিক থেকেই"

থামো তো বাপু। আমার বুদ্ধিতেই এতদূর এগোলে, এখন আর বাগড়। দিয়ে। না ।,

ছ্যাখো, যা ভালো বৌঝো। কিন্ত প্রোফেসরের জামাই হ'য়ে দৌকানদারিতে মন বসবে তে! ছেলের ?

তার জন্য ভাঁবছে। মাথন কি আমার তেমন ছেলে-_ হাখে। না, দু-দিন বাদে তোমার এই সংসারই ঘাড়ে নেবে সে!; ব'লে হিরগ্ময়ী ছেলের দিকে তাকাঁলেন। “কী রে, তোর মত আছে তো?

বাপের পাশে বসে মাখনলালও খাচ্ছিলো, মা-র প্রশ্ন শুনে

তার খাওয়া থেমে গেলো কিছু বললো! না, শুধু মুখমগুল ১৮

মনের মতো মেয়ে

'অতিশয় গম্ভীর ক'রে নতনেত্রে থালার গায়ে আচড় কাটলো! ! বোঝা গেলো_ চোখেও দ্বেখা গেলে! যে আন্ত সংসারটা তুলে নেবার মতোই চওড়া যার কীধ, একটি কলেজে-পড়া ছিপছিপে মেয়ের ভার বইতে তার খুব অন্ুবিধে হবে ন।। |

আপনার! ভাবছেন এর কোনে। ইতিহাস আছে? হ্যা আছে একটু! প্রকৃতি দেবীর কারসাঞ্িতে ভুল হয় না, অত বড়ো প্রকাণ্ড যে-মাখনলাল, তারও বলিষ্ঠ রোমশ-বুকের মধ্যে কোথায় একটি ফুল ফুটেছিলো।

কথাটা! এই যে, মালতীর সঙ্গে রোজই তার দেখা হয়। দেখ হয় বলাট! ভূল হ'লো, মাঁলতীকে সে রোজই প্রায় দেখতে পায়। ওদের ভিতরের দিকের বারান্দাটা চোখে পড়ে তার ঘর থেকে ; এমন দিন বড়ো যায় না যেদিন অন্তত দু-একবার শাড়িপরা হালকা একটু হাওয়া মাখনলালকে আনমনা ক'রে না দেয়। সে অতীব ভদ্রভাবে__কি নিজেই লঙ্ভা পেয়ে-তথনই চোখ ফেরায়, কিন্ত ফিরিয়ে নিতে-নিতেও একটুধানি দেখেই ফেলে। কথনে! মালতী এঁ বারান্দায় বেতের চেয়ার টেনে আনে-_-একটু দূরেই যে কোনো-একজন মানুষ তাকে লক্ষ্য করছে, অন্তত করতে পারে, সে-বিষয়ে কোনো চেতনাই নেই তার-_ব'সে- বসে পড়ে, হাসে, চ্যাচায়, গল্প করে, ভাই-বোনের সঙ্গে গান করে শুনগুন। কোনে! মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকতে নেই. একথা কে না জানে_ কিন্তু মহিলাটি নিজেই যদি চোখের সামনে এসে বসে থাকেন তাহ'লে চোখ ছুটোকে উপড়ে

১৯

মনের মতো মেয়ে

ফেল! যায় তো! !__মাখনলাল অনেক সময় নিজেও জানেনি সে কী দেখছে, কিন্তু যেই মালতী বারান্দা ছেড়ে ঘরে গেছে, তখনই বুঝেছে এতক্ষণ তার চোথ কেন চঞ্চল ছিলো গুধুকি চোখ? প্রশস্ত বুকের তলায় হৃতপিগুও কি দ্রুত হয়নি?

এইটুকুই ইতিহাস কিছুই নয়, কিন্তু খুব কি কম ? মাঁথন- লাল_-আপনাঁর! ঠিক ধরেছেন_-একটু কম-বুদ্ধির' মানুষ, শহরের তুখোড় যুবকদের মতো কম বয়সেই অনেক-কিছু লে জেনে ফেলেনি। একটু চোখে-দেখার পুজি নিয়েই তার সুখ, এমন কি, মনে-মনে ভাবটা তাঁর এই, যেন সত্যিই মালতী তার চেনা এদিকে মালতীর বিশ্বজগতে মাখনলাল নীমক একজন প্রকাণ্ড প্রতিবেশী পুরুষের যে অস্তিত্বই নেই একথা সে কি জানে? ভাবে কখনে।? হয়তো জানে, কিংবা! জানে না, কিন্তু ভাবতে হ'লে মালতীকে খুব কাছের মানুষ ছাড়া আর-কিছু ভাবতে পারে না। তাই মা-র এই প্রস্তাবে সে তেমন অবাক হ'লো না অত্যন্ত বেশি স্ুুখীও হ'লো না, যেন প্রায় জীনা কথ] বলেই মেনে নিলো পাঁশের বাঁড়ির বারান্দাবততিনী যখন তার পার্শববতিনী হবে, তখন তার জঙ্গে কী-রকম ক'রে চলবে, কী-রকম কথা বলবে, তারও একটা খশড়া রাত্রে শয়ে-শুয়ে মনে-মনে তৈরি ক'রে ফেললো সে। প্রথম কথ! জিগেস করবে এই যে, তোমাদের বারান্দা থেকে আস্জাকে কি

কখনে। দেখেছো ? কী বলবে তখন? নও

মনের মতো যেয়ে

এর দু-একদিন পরেই হিরগুয়ী কাজে নামলেন। হুপুর- বেল! খাওয়ার পরে লালপেড়ে পাটভাঙ। শাড়ি পরলেন, বেশ বড়ে। ক'রে সিদুরের ফেটা দিলেন কপালে, আর একটি পান মুখে দিয়ে প্রোফেসরের বাড়িতে রওনা হলেন। ফিরে যখন এলেন তখন তীর যুখের হাসি মুছে গেছে, পান-খাওয়া ঠোটেও তেমন আর প্রসন্নতা। নেই

রাঘববাবু তখন বাড়িতে, সেটা তার দিবানিদ্রার সময়। কিন্তু সেদিন তীর পুরোনো অভ্যাসে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটলো!

পাশের ঘরে বসে মাখনলাল শুনলো তার মার প্রায় অবিরাম গলা, মাঝে-মাঝে বাবার মু আওয়াজ--কিল্তু মাঝবে- মাঝে মা যখন গলা চড়ালেম, তখন কথাগুপিও তাঁর কানে এলো

কী বললে? দৌকানধার! দৌকানদারের ছেলে! ওদেরই-বা! এত দেমাক কিসের গুনি ? প্রোফেসর ? কিন্তু মাইনে পায় কত ? আমাদের সেই কত বড়ো বাড়ি, বড়ো-বড়ো৷ নৌকো" বোঝাই ধান, পুজার সময় সে কী তুমুল'*ও-রফম দেখেছে ওরা! কখনো ?."*না, কথাট। কানেই তুললে! না! “বিয়ের কথা আমরা ভাবছি না এখনো! মেয়ে আমাদের ছেলেমানুষ 1”"-" ছেলেমানুষ! কত আর ধিঙ্গি হবে বলো তো ?1...পছন্দ? আমার ছেলে কি কারো! চাইতে কম? সেকিবি. পাশ করেনি, না কি তার চরিত্র ভালো না, ন! কি তার খাওয়া-পরার অভাব? কোথায় পাবে ওর চাইতে পাত্র? তো কালো

মনের মতে মেয়ে

মেয়ে, ফোন রাজপুত্র বরণ করবে তাকে? কত ভাগ্য ওদের যে আমি-'-''-ও2 1

ঘুরে-কিরে এই একই কথ বার-বার। রাঘববাবু ততক্ষণে বোধহয় খুমিয়েই পড়লেন, মাখনলালও আর শোনবার চেষ্টা করলো না, কিন্ত মার গলার আওয়াজ পেলে। আরো খানিকক্ষণ

এর পরে কয়েকটা দিন অপমানের ভ্বালায় ছটফট করলেন হিরগ্ায়ী। অপমানের ডবল কারণ এই যে, বৌ ঘরে আনবার গরজ তার যত, মালতীকেই বৌ করার ইচ্ছে তার বেশি। “বললাম, মেয়েকে পড়াতে চান আমরাই পড়াবো, বি. এ. পাশ বৌ হ'লে আমাদেরই সখের কথা, আমাদের দাবি-দাওয়া কিছু নেই তাও বললাম, তবু কিন৷ কানেই তুললো না৷ কথাট! ! “বালা রে বাবা, গরবে যেন ন'ড়ে বসে না! কিন্তু কেন_-কারণট! প্টনতে পাই কি? টেবিল সাজিয়ে বসে পুই-চিংড়ির চচ্চড়ি খায় বলে?

'আঃ! থামো। মা!” মাথনলাল মুদু স্থরে প্রতিবাদ করলো ।। “এই গায়ে-গা-লাগ। বাড়ি-_ কেউ শুনে-টুনে ফেললে

শুলুক ন। ! হিরণয়ী প্রোফেসরের বারান্দার দিকে সারে এসে আর-এক পর গলা, চড়ীলেন। “আমি কি ওদের ডরাই, না আবার ওদের সাধতে যাচ্ছি! অঠ তোর মতো যুগ্যি ছেলের, মা আমি-_আমার আবার ভাবনা ! দেখবি, মাখন দেখবি, এমন একদিন হবে যে, তোর দিকে- হ্যা, তোর দিকে তাকিয়ে বুক ঘ'লে যাবে ওদের! এই আমি ব'লে দিলাম।'

২২ তি

মনের মতো মেয়ে

এইরকম ঢেউ উঠলে! আরে! ক-দিন, তারপর মাখমলালের বিয়ের কথাট। আস্তে-আন্তে মিলিয়ে গেলে। মদের দোকানের অবিনাশবাবু শ্রীবণেই তীর মেয়ে পার করলেন, আরো অনেক শাদা-সিধি সি'ছুর ছুলো, কিন্তু শ্রীমাখনলাল ঘোষ, বি, এ. ষে কিনা স্ত্রীর ভার গ্রহণ বহন করার বিশেষভাবে যোগ্য, তার বিয়ের কথাই আর উঠলো না। নিশ্চয়ই সে-বছর বাংল। দেশে কুমারী কম্যার অভাব ছিলো না, কিন্তু ছিরগ্মমী মুখে অনেক বলে-ট'লেও শেষ পর্যন্ত তেমন উদ্ভোগী হলেন না। কেন? তক্ষুনি ছেলের খুব ভালো বৌ ঘরে এনে প্রোফেসরকে বাড়ি-স্দ্ধ তাক লাগাতে পারতেন তো? তা-ই তো তীর পক্ষে স্বাভাবিক ছিলে! ? নিশ্চয়ই--কিল্তু কেন হিরগয়ীর ব্যবহার এখানে উল্টে। হলো, আমি তা ঠিক বলতে পারবো না তিনি কি সত্যি-সত্যি ভাবছিলেন যে, এঁ বিদ্বান-বাড়ির উপর আশ্চর্য কোনে! প্রতিশোধ নিতে পারবেন? তা যদি হয়ে থাকে, অন্তত বাস্তবে তার লক্ষণ কিছু ছিলে! না। মাস কাটলো,- দু'মাস কাটলো, প্রোফেসরের বৌ ভদ্রতা ক'রেও--এমনি প্রতিবেশী বলেও_-একদ্িন এলেন না, কোনোদিনই আসেন না তিনি, যদিও হিরপায়ী মাঝেমাঝে আগে যেতেন। সেই বারান্দা তেমনি নিধিকার, তেমনি সেখানে হাসির হাওয়া, আচলের ঝলক, কিন্তু মাখনলাল সেদ্দিকে আর তাকায় ন।।

আপনার! ভাবছেন মনের হুঃখে ? না, মাথনলালের একটা

মনের মতো মেয়ে

গুণ এই যে, অত ছুঃখ-টুঃখ বোকে না আসল কথা, তার এখন সময় নেই সকালে উঠে এক বাটি দই-চিড়ে থেয়ে দোকানে চ'লে যায়, দুপুরে খেতে আসে একবার, একটু জিরিয়েই আবার বেরোয় আর ফেরে সেই রাত্রে। বাপের অর্ধেক কাজই সে তাঁর চওড়া কাধে তুলে মিয়েছে-বলতে গেলে সবটাই ; যেমন তার উত্সাহ, তেমনি উদ্ভাম, আর মস্ত মোটা মাথার মধ্যে মগজের যদি অভাব থাকে, শ্রেফ পরিশ্রমে তা পুষিয়ে যায়। তাকে তে। দেখেছি সে-সময়ে--ঘোড়ার মতো খাটছে সারাদিন, চরকির মতো ঘুরছে সারা শহর, এর মধ্যে বিদ্বান-বাপের বিদ্ুষী কন্যার কথা মনে করার সময় তার কোথায়?

না, সময় নেই। শ্ধু যেতে-আসতে প্রোফেসরের বাড়ির 'সামনের পথটুকু তাঁর কেমন অস্বস্তি লাগে হঠাৎ মনে হয় সে বুঝি বডড লম্বা, বডড €মাটা, কাপড়টা বুঝি ময়লা, চলনটা! বিশ্রী একতলায় রাস্তার ধারেই ওদের বসবার ঘর; মাখনলাল প্রীণপণ চেষ্টা ক'রেও একবার না-তাকিয়ে পারে না। কিছু দেখতে পায়? কিছু না, পরদার ফাঁকে ঝাপসা শুধু আভাস কিন্তু হঠাত কোনো-একদিন পরদা হয়তো! স'রে যায়, তখন চোখে পড়ে_-চোখে পড়ে অচেনা এক অন্য জগণ্ড। মাখনলালের জন্ম- চেনা বাড়িতে সবই ষেন সব সময় অগোছালো, পরিঙ্গারটাও বড়ো জোর আধ-ময়ল! ;২ আর এখানে সাজানো ঘর, সুন্দর অভ্যর্থনা, দেয়ালে ছবি, সাবিু-সারি ব্ই, অন্য জগণ্ড। কখনে! হাসি, টুকরো কথা, একটু হয়তো শাড়ির কিলিক। কোনোদিন

উঃ

মনের যতো জেয়ে

এমনও হয় যে, মাখনলালের প। যেন আর চলে না, প্রকাণ্ড পেশীবহুল বুকের মধ্যে হৃপিড দ্রুত হয় একটু ; হঠাত মনে হয় কাঠের দোকান, আর অফুরন্ত হাতে হাতে-ঘোরা ছাপানে! কাগজ-_তা কাঠের মতোই গুকনো, কাগজের মতোই রক্তন্থীন। কিন্তু যখনই বুকম মনে হয় তখনই ডবল-কদমে পা চালায় সে, ছুটে গিয়ে ট্র্যাম ধরে, তারপর কাজের ভিড়ে সব ভুলে যায়।

যুদ্ধের দ্বিতীয় বছরের মাঝামাঝি তখন, সাপ্লাই-আপিশের অন্তঃপুরে টাকার ভিয়েন বসেছে, গন্ধ দিচ্ছে হাওয়ায়। অন্য অনেকের মতো মাধনলালও সে-মুখো হ'লো-_-একটু ভয়ে-ভয়েই, কিন্তু হাতে-হাতে ফল যা পেলো, তা নিশ্চয়ই তার আশাতীত। বয়সের তুলনায় তাকে বড়ো দেখায় সেটা হয়তো সুবিধে ছিলো, হয়তে! তার বলবান চেহারায় বিশ্বাস জাগে, কিংবা তার, লেগে থাকার শক্তি কিছু বেশি ;--কারণট! যা-ই হোক, ঘুরে- ঘুরে একে-ওকে ধারে বেশ কিছু কাক্র তার চটপট জুটে গেলে! তারপর শীতকালে যেই জাপান যুদ্ধে নামলো, অমনি ষেন-__ কিন্ত্রু তথনকার কথ। আপনারা তে। জানেন।

হ্যা, আশ্চর্য সময় গেছে তখন কল্রকাতায় লোক নেই, কলকাতায় লোক ধরে না, কলকাতায় বোমা, কলকাতার ফুটপাতে ধুঁকে-ধুঁকে কত হাজার মরলে! | ছুপয়সার জিনিশ বারে!৷ আনা, চাল, চিনি, কয়লা, মুন কিছ্টু নেই দেশ ভ'রে খাকি, চাকরি, আর টাকা-টাক! শস্তা নোটের হড়াছড়ি। ভাবতে এখন আমাদেরই অবাক লাগে, কিন্তা এরই মধ্যে

চু

ডঃ

মলের মতো যেয়ে

মাখনলালও কম আশ্চর্ম না একেই হয়তো৷ কপাল বলে- না কি তার মার আশীর্বাদই ফললে। 1 যেখানে সে হাত দেয় সেখান থেকেই টাকার যেন ঢল নাষে। এক-একবার একসঙ্গে প্রায় কুলির বোঝা! নোট পায়, পকেটে ধরে না, খবর-কাগজে বাণ্চিল বেঁধে ব্যাঙ্কে বয়ে আনতে হয়। রোজ জমা দিচ্ছে, রোজ মোটা-মোটা চেক কাটছে, আর দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর কেমন ক'রে কেটে যাচ্ছে কখন দ্িন' আর কখন রাত্রি সে-কথাই প্রায় ভুলতে বসেছিলো, হঠাৎ একদিন দম নিয়ে দেখলো স্লক্ষপতি হয়েছে। সত্যি।

যেখানে ছিলো গলির মধ্যে ছোট্ট দোকান, সেখানে এখন মস্ত কারখানা, বড়ে। রাস্তায় শো-রুম, একশো লোকের রুটির মালিক মাখনলাল। তার ছোটে দু-ভাই, তারাও কলেজ ছেড়ে কাজে লাগলো-__-এবার আর হির্ময়ী আপত্তি করলেন না। আর রাঘববাবু? তার এখন পেনশন- পেনশন অন্‌ ফুল্‌ পে! ছেলের যোগ্যতার স্বযোগে তার জমিদারি- মেজাজে উক্তান বইলো ; সকালবেলা বিরাট বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরেন, তারপর রান্নাঘরের চৌকাঠে বসে স্ত্রীর সঙ্গে খোশগল্প, গড়িমসি-বেলায় যাকে বলে ভ্গ্রন, লম্বা ঘুমে ঢুপুর পার, রাত্রে মাঝেমাঝে মাখনলালের সঙ্গে হিন্বুশবপত্রের একনিষ্ঠ আলোচনী। রোজগারের ভার ছেলে যর্থদু নিয়েই নিলো, অগত্যা তিমি খরচের ভারটা নিজের হাতে রাখলেন খরচ এবং না-খরচ খ্হুটোরই। অর্থাৎ কতটা ব্যয়, কতটা

১০

মনেক় মতো যেয়ে

সঞ্চয়, এবং কী-ভাবে সঞ্চয়, এইসব কঠিন সমশ্তার সমাধানে বাঘববাবুর মাথা থাটলো, এবং তার ইকনমিক প্ল্যানিং হিরগায়ীর অনুমোদন এতই নিশ্চিন্ত যে, মাখনলালের্‌, কোনো কথ। বলারই দরকার করে না। কথ। বলার ফুরশতও তারু নেই, হয়তো ইচ্ছাও না, কাজের ঝোৌঁকেই ভরপুর সে, অন্থ সব ওদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সে বরং নিশ্চিন্তই হ'লো। বাড়ির খাওয়া-পরা এখন খুব সচ্ছল-_পরার চাইতে খাওয়াটাই বেশি__ কিন্তু দাম-টাম আগুন হ'লেও খেতে আর মামুষ কত পারে, আর বেশি টাকার দুশ্চিন্তাই কি নেই-টাকার ভাবনার চাইতে কম! বাইরে হাল-চাপ কিন্তু তেমনি, সব আগের মতোই আধ-ময়ল! গরিবভাবের, চেহারা দেখে কেভ বুঝবেই না যে, এই পরিবারের আয়ের অঙ্ক দূন-চৌদূন ছাড়িয়ে এখন দশগুণ

আপনার ভাবছেন এরা খুব সংযমী ? ঠিক হয়তো তা নয়, হয়তো! একেবারে পাইকেরি আড়ম্বর দেখাবেন ব'লেই খুচরোগুলি এর! বাদ দিচ্ছিলেন। ব্যাঙ্কে এদের আস্থা নেই, মাটিই খাঁটি। রাঘববাবু জমি কিনছেন, সোনা, হ্রিগয়ীর গয়নার কথা ছেড়েই দিলাম। মেয়েদের বিয়েরও প্রায় সময় হলো একজনের তো শাবেকি-মতে শিগগিরই, তবে ছোটোটিকে, হিরগ্ায়ীর দু-নম্বর পণ, বি. এ. পাশ করানে! চাই। বি. এ. পাশ ছেলের পুধু না, বি.এ. পাশ মেয়েরও ম। হবেন তিনি; “দেখুক ওরা, শুমুক, বুঝুক যে, বিস্বোতেও আমরা কিছু কম ন1 !

মনের মতে মেয়ে

ওরা! মানে অবশ্য পাশের বাড়ি, প্রোফেসরের গরবিনী বৌ। ফেমন__দেখলে তো এবার বিয়ে দিলে রাজরানী হ'তে মেয়ে, ছেলে আমার লক্ষপতি আক!

ঠিকে-ঝির মুখে পাকে-প্রকারে বাতাও পাঠিয়েছিলেন হিরগুয়ী, যেদিন রাঘববাবু বালিগণ্জে অধেক-শেষকরা একটা বাড়ি কিনলেন সে-খবরটাও ভোলেননি ;-_সে-সব যথাস্থানে পৌচেওছিলো, কিন্তু প্রতিপক্ষের মৌনভঙ্গ হলো না। তীদের কাছে প্রতিবেশীর যেমন অস্তিত্ই নেই, তেমনি হিরগ্ায়ী প্রতি- বেশীর কথা ভূলতে পারেন না। অ্কুত তীর প্রতিযোগিতা, আশ্চর্য তার প্রতিহিংসার ইচ্ছা

ভগবান দয়া করলে বোধহয় এমনিই হয়; হ্রগয়ীর সে- ইচ্ছাও প্রায় পূর্ণ হ'লো। শোন! গেলো, প্রোফেসরের ঘরে নাকি এখন হাড়ি চড়েনা। ভারি খুশি হলেন কথাটা গুনে, 'একধিন ছেলেকে ডেকে সবিস্তারে শোনালেন সব।

বলবার মতে] খবর বইকি | স্ভদ্রবাবু ছ'মাস ধ'রে মাইনে পাচ্ছেন না; কোথাকার পচা কলেজ একটা, কোনোদিনই ঠিক-ঠিক মাইনে দিতে! না, আশি টঙ্কুলি হাতে গুজে, আড়াই- শে লিখিয়ে নিতো ও-সব সাত-সতেরে ফুটুনি থাকলে হবে কী-_ভিতরে ফক্ধিকার। ট্যুশনি ক'রে নোটবই লিখে চালাতো।। এখন কাগজ নেই বলে নোট-ফোট আর ছাপাচ্ছে না কেউ, এদিকে ছেলেরা সব ঠাশঠাশ চাকরি পাচ্ছে-__মাষ্টার রেখে

পড়াবে কে ? এখন নাকি এমন অবস্থ। যে_ | ২৮

শা

মনের মতো মেয়ে

চুপ ক'রে এপর্যন্ত শুনে মাখনলাল জিগেস করলো, “তুমি জানলে কীকরে?'

“বাঃ হরিমতি ওদের বাড়িতেও বাধন মাজে না? ও-ই তো! কাল বলছিলে! যে, ওখানে আর পোষাবে না৷ তার'''মতি্যি, গরিব মানুষ, পেটের দায়ে খাটে, মাইনে না-পেলে'*'তা চাকর-বাকর তো বেশি কথাই.''রোজ নাকি বাজারও হয় না। এদিকে মেয়েটা বি. এ. পরীক্ষা! দেবে এবার--তার ফিশের টাকা-_

এখানে বোধহয় সুপুত্র মাখনলাল কিছু ঝলে-ট'লে থাকবে_-পরের খবরে আমাদের দরকার কী, বা আস্তে তার চেয়েও মৃদু কোনো প্রতিবাদ হছিরিগয়ী তখনই স্বর বালালেন _তা তো ঠিকই, তা তো ঠিকই, আমি বাপু অত সাতে-পাচে নেই_-তবে কিন]| মেয়েটার কথা ভাবছিলাম, বিয়েও হু'লো৷ না-_-তা আমি বলি কী, বিষ্ভাশিক্ষা তে! অনেক হু'লো, তুই বলিস তো৷ এবার একটু অন্য রকম শিক্ষা! দিই।'

মোটা মাখনলাল এই সৃন্মম কথার মানে বুঝলো না, হিয়ণায়ী তাই কথাটা বিশদ করলেন

“একবার টিপে দেখবে। নাকি প্রোফেসরের বৌকে ? আর দেখবারই-বা আছে কী-বর্তে যাবে না এখন তু.ক'রে ডাকলে!

থুব একট! গৌরবের হাসিতে উদ্ভামিত হ'য়ে ছেলের দিকে তিনি তাকালেন, কিন্ত মাখনলালের স্বভাবতই গম্ভীর মুখমণ্ডল

২৯

মনের মতো যেয়ে

এখন প্রায় কঠোর দেখালো, কথা না-ব'লে বেরিয়ে গেলো আস্তেআস্তে, যেতে-যেতে অস্ফুটে শুধু বললো, বাজে ! মন্তব্যটা কার উদ্দেশ্যে তা ঠিক বোঝ। গেলো না।

সেদিন কাজের শেষে বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হু'লো মাথনলালের প্রোফেসরের বাড়ির সামনে এসে হ্ঠাত মা-র যুখে-শোন। কথাগুলি তার মনে পড়লো একটু ধাড়ালো, মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলে! বাড়ির দিকে অন্ধকার ;- শুধু দোতলার একটি ঘরে আলো জুলছে, পাখা চলছে, আর সেই পাখার ব্লেডের মস্ত কালো ছায়া ঘুরছে দেয়ালে। গুধু এটুকুই দেখা গেলো, আর-কিছু না। মা-র সব কথাই বোধহয় ভুল-_ ভাপোই আছে এরা অন্তত তা-ই বিশ্বাস করার চেষ্টা করলো! মাখনলাল। কিন্তু রাস্ত। থেকে দোতলার দিকে তাকিয়ে কতটুকু বোবা যায়।

কেমন একট! ছোট্র কীটা মাখনলানের বুকের মধ্যে বাস! বীধলো- কাজের ফাঁকে-ফাঁকে হঠাৎ খচ করে ওঠে সত্যি কি ওরা খুব কষ্টে আছে ? না, না-_মা-র যত বাজে ও-সব! ওদের কষ্ট ভাবতে মা-র মুখ হয়, অকারণ ঈর্ষায় গুড়শুড়ি লীগে-_তাই বাড়িয়ে বানিয়ে ইচ্ছে মতো-কিন্ত্র সত্যি যদি তা-ই হয়? হতেও তে! পারে? হ'লে তার কী, সেকি করতে পারে, তার কী করবার আছে-_কিছু না, কিছুই না? কিছুই যে তার করবার নেই, পাশের বাড়িতে--যদি মার কথাই সত্যি হুয়-_-ভাত-কাপড়ে টান পড়লেও তাকে এই আকার

৩৩

মনের মতো যেয়ে

অতীত এবং প্রয়োজনের অতীত টাকার বস্তা নিয়ে চুপ করেই $থাকতে হবে, একথা ভাবতে মাখনলালের অদ্ভুত একটু আঘাত লাগলো তাতে আবার রাগ হ'লে! নিজেরই উপর ;- আমিও কি আমার যার মতো, আমিও কি "ওদের কথা ভুলতে পারছি না ? এদিকে যুদ্ধের ছুলুস্কুল দিন__দিনের পর দিন, মাসের পর মাস-যুদ্ধ যেন এজীবনে শেষ হবে না শেষ হবার তাড়াই-বা কিসের_-এমন ম্মষোগ মানুষের জীবনে ক-বার আসে, বিশেষত বাঙালির জীবনে ! বালিগঞ্জের সেই বাড়ি নিয়ে উঠে- পড়ে লাগলেন রাঘববাবু; মাল-মশলা কন্ট্রোলের দরেই জোগাড় হ'লো, কন্ট্র্যাউর ভরসা দিলো, মাজ-চারেকেই শেষ হ'তে পারবে বাড়ির টিলেঢোল! গেরস্ত ভাবটা, চটকদার আসবাবের অভাব_তারও এবার তিন-ডবল শোধ চাই, এই হ'লে! হিরণায়ীর মত অতএব প্রত্যেক ঘরের আলাদা-আালাদ। মাপমতো। আনকোরা নয়া ছাদের চেয়ার, টেবিল, আলমারি, পালঙ্ক তৈরি হ'তে লাগলো নিজেদেরই কারখানায়; মাখনলাল সোনার দামে সেগুন কিনলো, ডবল মন্ডুরি কবুল ক'রে ভাগিয়ে আনলো! পার্ক গ্রাটের কারিগর | হ্যা _মাবাপের এই উৎসাহে, এই “ষড়যন্ত্রে' মাখনলালও যোগ দিলো _নিজের ইচ্ছায় ঠিক নয়, কিন্তু ছাড়া আর করবারই-বা আছে কী? এটুকু ভালে হ'লে! যে, আরো-খানিকটা কাজ তার বাড়লো এসো কাজ; _জীবনে যার আর-কিছুই নেই, মনের কোনো রত্বই

৩৩১

মনের মতো বব

যার জমলেো! না, তুমি তে। সেই ছুর্ভাগারই পরিত্রাণ মাথনলালের এখন এমন অবস্থা যে, দিনের গাড়িটাকে কোনে রকমে রাত্তির বারোটার ঘুমের অতলে ঠেলে দিতে পারজে বাচে-দিনট1 কেটে যাক, ছাড়া দিনের কাছে আর কিছু সে চায় না। কত দিন স্লানাহারও হয় না; লক্ষাই করে না, কম্টও হয় না কোনে

কিন্ত ছিরগায়ী লক্ষ্য করলেন, ছেলেকে যথোচিত সন্সেহে ভণ্সনাও করলেন। এমন করলে শরীর আর ক-দিন-_-এত যাদের ঘোরাঘুরি, তাদের কি আর গাড়ি না-হ'লে চলে। সেই-যে তারাপদ গাড়ির কথা বলেছিলো-:

'পাওয়। গেলো না, মা।”

'হ্যাঃ! তুই মন করলে আবার পাওয়া! যায় না !'

থাক না, চ'লে যাচ্ছে তো বেশ।'

'এ তোর এক বিশ্রী স্বভাব--সবার জন্য সব হবে, শুধু নিজের বেলায় কিপটেমি। ভিড়ের মধ্যে ট্র্যামে-বাস-এ আজকাল উঠতে পারে মানুষ ।,

“সবাই উঠছে, মা_ মেয়েরা মুদ্ধ, 1

“মেয়েরা! মেয়েদের কথা বলিসনে আমাকে মেয়ে আর আছে নাকি আজকাল-_মরদ, সব মরদ ব'নে গেছে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে মুত্তি কী এক-একট। !- হ্যা, জানিস, প্রোফেসরের মেয়ে বি. এ. পাশ ক'রে চাকরিতে ঢুকেছে। বাপ এবার মেয়ের রোজগারে বসে-ব'সে খাবেন রি

৩২

ঘনের মতে! মেয়ে

এ-কথা উঠতেই মাখনলাল আন্তে সরে গেলে! সেখান থেকে, আয়নার সাষনে দাঁড়ি কামাতে বসে গেলো কিন্তু হিরশ্ায়ী তার পিছন-পিছন এসে যেন আপন মনেই বলতে লাগলেন-__ কেমন! এখন তো বুক স্বলে যাচ্ছে! আহা-- তখন. ঘ্গি মেয়েটার বিয়ে দিতুম-_এমন জানলে কি আর-_তা বাপু লজ্জা না-ক'রে মনের কথাটা যুখ ফুটে বললেই হয় !'

ঘুরিয়েকফিরিয়ে হিরধায়ীর সেই একই কথা বার-বার।

এর ক-দিন পরে মাখনলাল দষদমে একটা কাজ সেরে ট্যাঞ্সিতে ফিরছে লাটের বাড়ির মোড়ে, লাল আলোর সামনে থামতে হ'লো। প্রীয় সন্ধে তখন, আপিশের ছুটির সময়, টর্যাম-বাঁস্এর দিকে তাকাতেও ভয় করে। ফুটপাতে গড়িয়ে আছে তিন-চারটি আপিশ ফেরতা বাঙালি মেয়ে''কী করে তারা ট্র্যামে উঠবে, কখনো কি উঠতে পারবে কিন্তু কেনই-বা এ-সব ভাবা, রোজ্রই যাওয়!-আাসা করে এনরা-_-অভ্যেস আছে। তবু মাখনলাল আর-একবার তাকালে! ; এবার মনে হুলো-_ হয়তো আছেও মনে হয়েছিলো একজনের মুখ তার চেনা হ্যা__-সেই-__সেই প্রোকেসরের মেয়ে ট্যাক্িট। দ্াড়িয়েছিলো ফুটপাত ঘেষে, মাথনলাল ভালে! ক'রে তাকে দেখতে পেলো, এত কাছে থেকে আগে গ্ভাখেনি। কেমন হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে মালতী, মুখে ক্লান্তির শ্রী ক্লাস্তিটকু সুন্দর তাকে মানিয়ে গেছে যেন। একবার তার দিকে, একবার নিজ্বের পাশের শূন্া প্রশস্ত আসনের দিকে মাখনলাল

৩৩

মনের মতে যেয়ে

তাকালো--এমনি দু-তিন বার, কিন্তু একবারও চোখোচোখি হলো না। ডাকবে? কিন্তু কী বলে ডাকবে, আর সেটা- সেটা কি উচিত? যদি কিছু মনে করে যদি বলে-"কিছুই না! বলে- কিন্ক-_ এমনি ভাবতে ভাবতে লাল আলো! সবুজ হু'লো, ট্যাঞ্সি ফের চলতে লাগলো, পিছনে প'ড়ে থাকলে! ট্র্টামে ওঠার হতাশ প্রত্যাশ! মাখনলাল বাড়ির দিকেই যাচ্ছিলো, কিন্তু হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে গেলো চিতপুরে, মতুন বাড়ির ড্রেসিংটেবিলের আয়না বাছতে

আরে! কয়েক মাস কাটলো

রাঘববাবুর বাড়ি প্রায় শেষ, আসবাবপত্র তৈরি, এখন একটা শুভদিন দেখে গৃহ্প্রবেশ করলেই হুয়। হিরণ্য়ী কোমরে হাত দিয়ে সারা দিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, বাজে জিনিশ বেচে দিচ্ছেন, পুরোনে। শাড়ির ব্দলে এলুমিনিয়মের বাসন রাখছেন, বিলিয়ে দিচ্ছেন ছেড়া জামা-কাপড় শ্বশুরের আমলের কয়েকটা প্টীল-্রাঙ্ক ছিলো-_রং চ'টে গেছে, কোনোটার তালাও ভেঙেছে, কিন্ত খুব পোক্ত এখনে। ;_ সেগুলো! নিয়ে কী করা যায় একদিন সকালবেলা বসে-বসে তাই ভাবছেন, এমন সময় ছোটো মেয়ে লক্গমী ছুটে এসে খবর দিলো যে, স্থভত্রবাবুর বাড়ি পুলিশে ঘেরাও করেছে।

আয!

হা! মা, সত্যি পুলিশ এসেছে, কত লোকজন." দেখষেসে।**,

৩৪

হলের মতো মেয়ে

লক্ষ্মী মা-র হাত ধরে টানলো, কিন্তু তার দরকার ছিলো না। ব্যাপারটা, শুধু ছোটোদের না, বড়োদেরও ড্রক্টব্য বইকি। হিরগ্রয়ীর তো বিশেষ

হিরণায়ী প্রথমে রাস্তার দ্বিকের বারান্দায় এসে গাড়াঁলেন। €প্রাফেসরের বাড়ির সামনে ছোটোখাটো ভিড় জমেছে, তার মধ্যে পুলিশের লাল পাগড়ি হূলত্বল করছে রোদ্দ,রে। নিচের ঘরের দরজাটা হ1-করা খোলা, মনে হলো, বাইরে থেকে ধাক। দিয়ে ভেঙেছে; কয়েকজন লোক হুড়মুড় ক'রে ভিতরে ঢুকে পড়লে, আর-একজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে-পিটিয়ে প্রোফেসরের পিতলের নেম-প্লেটটা তুলে ফেলে দিলো রাস্তায়। হিরণায়ী মন্্রমুক্ষের মতো দেখতে লাগলেন। চার-চার কুলি ধরাধরি ক'রে প্রোফেসরের হলদে-কাপড়েমোড়া বড়ো সোফাট। রাস্তায় এনে রাখলো, তারপর চেয়ার দুটো, তারপর সেপ্টার টেবিল." পথ দিয়ে চলতে-চগতে একবার থমকে ফাড়ালেো সবাই, আশেপাশের আট-দশখান! বাড়ির বারান্দায় জানলায় জোড়া- জোড়া চোখে বিকীর্ণ হ'তে লাগলে! কৌতূহল, হয়তে। সভয় কৌতুক, সেইসঙ্গে একটু-বা করুণ

এর পর ছিরিণায়ী ভিতর দিকের বারান্দায় এলেন। সেখান থেকে ওদেরও ভিতরের বারান্দা চোখে পড়ে, জীবনের প্রতি- দিনের চলাফেরার ছবি, ভেসে আসে প্রতিবেশীর অন্তিত্ব বিষয়ে নিবিকার হাসির টুকরে।, গানের টুকরো, বেঁচে থাকার আনন্দের টুংটাং।

৩৫

মনের মতো যেয়ে

সেই বারান্দ! এখন শূন্য পড়ে আছে, নিঃশব্দ দরজা- জানল! বন্ধ, ভিতরে কেউ আছে ব'লে মনেই হয় না। কী হয়েছে, ব্যাপার কী? নতুন আর কী হবে, হরিঘতি তো সব বলেইছে। বাক্সের বাড়িভাড়া বাকি, এখন বাড়িওল! মালপত্র ব্রেক করেছে আরকি, টেনেহিচড়ে নিয়ে যাবে সব। তারপর ? ওদেরও কি হাত ধরে টেনে বের কারে দেবে রাস্তায়? প্রোফেসরের বৌকে, বাচ্চা হুটোকে, আর এঁ বি. এ. পাশ চাঁকরিকরুনি মেয়েটাকেও? তারপর স্ুভদ্রবাবুকে হাত- কড়া পরিয়ে সকলের চোখের সামনে দিয়ে ধ'রে নিয়ে যাবে? ঈশ- সত্যি-__বেচারা-_ছী-ছি_-কী কাণ্ড!

“কী কাণ্ড! হিরণায়ী ছুটে এলেন মাখনলালের কাছে, 'প্রোফেসরকে তো হাত-কড়। পরিয়ে ধারে নিয়ে গেলো! ।'

কী।

মাখনলাল তখন বেরোবার জন্য তৈরি হচ্ছে, মাথার মধ্যে কাঠ, লোহা, পেরেক, বল্ট,র পর্ধশ ভাবনার ঘুরপাক-_এরই মধ্যে হঠাৎ হিরশ্ময়ী উড়ে এসে সুভদ্রবাবুর বাড়ির এবং বাড়িওলার খবর সবিস্তারে তার কানে চাললেন।

সেদিন কাজে বেরোতে দেরি হ'য়ে গেলো মাখনলালের খবরট। শুনে তার কী মনে হ'লো, কী ভাবলো, তা আমি বলতে পারবে না; এর পরের ঘটনা তার মুখেই যেটুকু শুনেছি, এবং যেরকম শুনেছি, তারই সঙ্গে আমার অনুমান মিশিয়ে আপনাদের শোনাই। ততক্ষণে_-একবার সে বারান্দায় “গিয়ে

যলের হতো যেয়ে

দ্বেখলো-_-আরে। জিনিশ বের কর! হয়েছে; বই-ভরা-তরা বুককেস, খাবার টেবিল, রেডিও, গ্রামোফোন, ফেমে বীধাই বড়ো-বড়ে। ছবি এক পলক তাকিয়েই মাখনলাল ঘরে এসে বসলো; হিরঘয়ী এসে আরো এক কাহন কথ -বললেন--সত্যি, কী-কষ্ট ওদের__তা আমরা আর ভেবে কী করবো- যার যেমন কপাল- আর কপালই-ব! বলি কেম -_আম্ন বুঝে ব্যয় না-করলে-কিন্ত্ব মাখনলাল কোনে! কথারই জবাব দিলো না, মার চোখেও চোখ ফেললে। না।--কী আশ্চধ, সারা বাড়িতে জনপ্রাণীর সাড়। নেই--পালিয়েছে নাকি সব? - এতদিন আছে পাড়ার মধ্যে, কোন্‌ লজ্জায় আর মুখ দেখাবে! ইত্যাদি ইত্যাদি কথাতেও মাখনলালের যখন মৌনগজ হ'লে। না, তখন হিরণায়ী ছেলের মুখ থেকে কিছু-একট৷ শোনবার আশায় জিগেস করলেন, “তুই আজ বেরোবি না? মাথনলাল বললো, “ভু” কিন্তু তার পরেও তেমনি মুখ ফিরিয়ে বসে থাকলো অগত্য। হ্রিণায়ী চলে এলেন সেখান থেকে, প্বেক্ষণ করতে আবার একবার বারান্দায় এছগেন। ততক্ষণে ব্যাপারট পুরোনো হু'য়ে গেছে। সকালবেলার টাটকা উত্তেজনা আর নেই; আশে-পাশের বারান্দা থেকে জোড়া-জোড়া কৌতৃহলী চোখ স'রে গেছে; কেজেো। বেল। বাড়লো-_সকলেরই কাজ আছে, আছে রাঙ্নার তাড়া, আপিশেন 'তাড়া, হা! ক'রে পরের ব্যাপার দেখলেই তে। আর দিন কাটবে না-_আার ধাড়িয়ে-ছাড়িয়ে দেখাই-ব] বায় কতক্ষণ | সব মিটতে

ঙ্খ

বনের মতো! যেয়ে

বেশ দেরি হবে মনে হচ্ছে। ফুটপাতে রোদ্দরে প'ড়ে আছে, প্রোফেসরের অস্থায় ফানিচার_্নাজিমহ্বদ্ধ, খাট, লেখার